ঘোড়ার টমটমে চেপে শিক্ষার আলো—ভাগলপুরের রোহিত দাসের অনন্য মানবিক উদ্যোগ.

ঘোড়ার টমটমে চেপে শিক্ষার আলো—ভাগলপুরের রোহিত দাসের অনন্য মানবিক উদ্যোগ.

 অনলাইন নিউজ ডেস্ক,bangabarta.in: ভাগলপুর জেলার সবৌর এলাকার সরু গলিতে ভোর হলেই শোনা যায় ঘোড়ার টমটমের শব্দ। কিন্তু এই শব্দ শুধু যাতায়াতের শব্দ নয়, বরং তা বহন করে অসংখ্য অপূর্ণ স্বপ্ন আর শিক্ষার এক নীরব সংগ্রামের গল্প। এই টমটমের চালক রোহিত দাস নিজে কখনও স্কুলের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। তবুও তিনি দৃঢ় সংকল্প করেছিলেন—তার এলাকার কোনও শিশুই আর অশিক্ষিত থাকবে না।

গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রোহিত দাস প্রতিদিন সকালবেলা মহাদলিত টোলা, ওয়ার্ড নম্বর–৮-এর ১৫ থেকে ২০ জন শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। তার কাছে এটি নিছক পরিষেবা নয়, বরং নিজের জীবনের অপূর্ণতার প্রতিকার। যে শিক্ষার আলো থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছিলেন, সেই আলোই আজ তিনি শিশুদের কাছে পৌঁছে দিতে চান।

রোহিত দাস বলেন,

“আমি পড়তে পারিনি, কিন্তু বাচ্চারা পড়ুক—এটাই আমার সবচেয়ে বড় আয়।”

প্রতিদিনের প্রথম সওয়ারি তিনি শিশুদের জন্যই রাখেন। কোনও ভাড়া নেন না, কোনও শর্তও নেই। শিশুদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার পরই তিনি দিনভর টমটম চালিয়ে নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন। আধুনিক যাতায়াতের যুগেও তার ঘোড়ার টমটম আজ আলাদা পরিচয় পেয়েছে—এটি এখন শিক্ষার প্রতীক, মানবিকতার প্রতিচ্ছবি।

গ্রামবাসীরা রোহিত দাসের এই নিঃস্বার্থ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। সকলের একটাই কথা—এমন সমাজসেবী আজকাল খুবই বিরল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ