প্রি-ওয়েডিং শুট থেকে মৃত্যুর ফাঁদ! বালি সফর ভেস্তে দিতে পাসপোর্ট চুরির অভিযোগ, বাগদত্তা ও প্রেমিক গ্রেপ্তার
পুনের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের রহস্যমৃত্যা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়। বালি সফর বাতিল করতে পাসপোর্ট চুরির অভিযোগ, পরে লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাগদত্তা ও তার প্রেমিক।
ওয়েবডেস্ক , bangabarta.in : মহারাষ্ট্রের পুনে জেলায় তরুণ ব্যবসায়ী কেতন বিষাল আগরওয়ালের মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রথমে দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও তদন্তে সামনে এসেছে পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কেতন আগরওয়ালের বাগদত্তা সিয়া গোয়াল এবং তার কথিত প্রেমিক চেতন বাবুলাল চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ, লোহাগড় দুর্গ এলাকায় নিয়ে গিয়ে কেতনকে গভীর খাদে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, ৬ জুন কেতন ও সিয়ার ইন্দোনেশিয়ার বালিতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটে যাওয়ার কথা ছিল।
কেতনের বাবা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় চারজন একসঙ্গে ছিলেন— কেতন, তার বোন, সিয়া এবং সিয়ার ভাই। সবার পাসপোর্ট, টাকা, ক্রেডিট কার্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি একটি ব্যাগে রাখা ছিল।
পথে একটি ফুড মলে থামার সময় সিয়া নিজের মোবাইল গাড়িতে ফেলে এসেছেন বলে ফিরে যান। পরে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেখা যায়, সবার পাসপোর্ট থাকলেও শুধু কেতনের পাসপোর্ট নিখোঁজ।
ফলে বালি যাওয়া বাতিল হয়ে যায় এবং কেতনকে ফিরে আসতে হয়।
পরিবারের সন্দেহ, এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
কেতনের বাবার দাবি, ফেব্রুয়ারিতে তাঁদের বাগদান হয়েছিল এবং ১৯ জুন সিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ১৮ জুন আগে থেকেই উদযাপনের কথা বলে কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
১৮ জুন সকাল প্রায় ৮টা ২০ মিনিটে কেতন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট নাগাদ পরিবার ফোন পায়— কেতন খাদে পড়ে গিয়েছেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানায়, দুর্গ এলাকায় ছবি তুলতে গিয়ে প্রবল বাতাসে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে।
কেতনের পরিবারের দাবি, প্রথমে তারাও ঘটনাকে দুর্ঘটনা ভেবেছিলেন।
তবে মৃতদেহ বাড়িতে আনার সময় সিয়ার আচরণ তাদের সন্দেহ তৈরি করে। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর তার মধ্যে স্বাভাবিক শোকের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি।
এরপর তদন্তে উঠে আসে সিয়ার অন্য সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং পুলিশ হত্যার দিকটি খতিয়ে দেখা শুরু করে।
পরিবার জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর মাসে রাজস্থানের একটি প্রাসাদে জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের পরিকল্পনা ছিল।
কেতনের বাবার দাবি, এটি ছিল দুই পরিবারের সম্মতিতে হওয়া একটি নির্ধারিত বিয়ে এবং তারা আগে থেকে কোনো সম্পর্কের বিষয় জানতেন না।
বর্তমানে পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

0 মন্তব্যসমূহ